রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ - ১২:৪৬
সন্তানের আগমনে বদলে যায় দাম্পত্যের সমীকরণ, কীভাবে বজায় থাকবে ভারসাম্য?

সন্তান জন্মের পর অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ হলো পারিবারিক ভূমিকার নতুন করে সমন্বয় করা এবং সন্তানের প্রতি ও জীবনসঙ্গীর প্রতি দেওয়া মনোযোগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। যেটিকে কখনো কখনো ‘ঈর্ষা’ বলা হয়, সেটি আসলে জীবনসঙ্গীর পক্ষ থেকে আরও মনোযোগ পাওয়ার আকুতি হতে পারে। জীবনসঙ্গীর প্রতি প্রকাশ্যভাবে, আরও বেশি এবং বিভিন্ন উপায়ে মনোযোগ দেওয়া তার ‘আমাকে দেখা হচ্ছে, আমাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’-এই অনুভূতিকে শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে এটি সন্তানদের জন্যও উপকারী।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম রেজা ইউসুফজাদেহ সন্তান জন্মের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঈর্ষা বা মনোযোগের ভারসাম্যহীনতা কীভাবে সামলানো যায়-এ বিষয়ে একটি প্রশ্নোত্তর তুলে ধরেছেন। তা পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

প্রশ্ন: আমার মেয়ে আমাকে খুব ভালোবাসে এবং এ কারণে আমার স্ত্রীর মধ্যে ঈর্ষার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, আমার স্ত্রী এ বিষয়টি নিয়ে ঈর্ষা করছেন। আমি কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাব, যাতে আমাদের সম্পর্কে কোনো সমস্যা না হয়?

উত্তর: সন্তান জন্মের পর অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ হলো পারিবারিক ভূমিকার পুনর্বিন্যাস। অর্থাৎ, সন্তান আমাদের জীবনে আসার আগে পরিবারে শুধু আমি ও আমার স্ত্রী ছিলাম। আমাদের মনোযোগ, ভালোবাসা ও পারস্পরিক যোগাযোগ মূলত একে অপরকে কেন্দ্র করেই ছিল। কিন্তু এখন আমাদের জীবনে আরেকজন মানুষ এসেছে। তাই এই নতুন পরিস্থিতিতে ভারসাম্য তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম বিষয় হলো, এই সম্মানিত ভাইকে খেয়াল করতে হবে-সন্তানের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ভারসাম্যের সীমা অতিক্রম করছেন কি না। অর্থাৎ, তিনি যখন বাড়িতে আসেন, তখন কি স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্তভাবে সন্তানের দিকেই মনোযোগ দেন? যদি এমন হয়, তাহলে এটি সন্তানের মায়ের মধ্যে-এবং কখনো কখনো বাবার মধ্যেও-অভিযোগ বা অসন্তোষের কারণ হতে পারে। তাই প্রথমেই দেখতে হবে, সন্তানের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক মনোযোগের ভারসাম্য বজায় থাকছে কি না।

দ্বিতীয় বিষয় হলো, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা যখন ‘ঈর্ষা’ শব্দটি ব্যবহার করি, তখন অনেক সময় যে ব্যক্তি ঈর্ষা করছেন বলে মনে হচ্ছে-আমার মতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টি সবসময় এতটা সরলভাবে ‘ঈর্ষা’ নয়-তার অন্তর্নিহিত অনুভূতিটি অন্য কিছু হতে পারে। যেহেতু তিনি নিজেই এটিকে ঈর্ষা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাই আমি বরং এটিকে এভাবে দেখব: ‘আমাকেও একটু মনোযোগ দাও।’

অর্থাৎ, যখন আমরা বলি ‘ঈর্ষা’, তখন এর অর্থ হতে পারে-এই স্ত্রী তার স্বামীকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বলছেন: ‘আমার প্রতি তোমার মনোযোগ কমে গেছে।’

তাই বাস্তবিক দিক থেকে আমি এই সম্মানিত ভাইকে বলব, আপনার স্ত্রীর প্রতি মনোযোগকে একটু বেশি প্রকাশ্য, বেশি পরিমাণে এবং আরও বৈচিত্র্যময় করুন। যাতে আপনার স্ত্রী এমন অনুভব না করেন যে, ‘আমার সন্তান আসার পর থেকে এই সংসারে আমি যেন একেবারে প্রান্তিক হয়ে গেছি; আমাকে আর কেউ দেখে না, আমার প্রতি আর আগের মতো মনোযোগ দেওয়া হয় না।’

আমাদের সন্তানের ব্যক্তিত্ব ও মানসিক বিকাশের জন্যও ভালো হবে, যদি আমরা এমনভাবে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখি যাতে সন্তানরা তাকে আমাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে শেখে। অর্থাৎ, সন্তান যেন দেখে-‘আমার মা, আমার বাবার জীবনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।’

আবার মা-ও বাবার সঙ্গে এমনভাবে সম্পর্ক ও আচরণ করবেন, যাতে সন্তানরা অনুভব করে-‘আমার বাবা আমাদের পরিবারের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, আমাদের পরিবারের মূল স্তম্ভ।’

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই ধরনের পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও গুরুত্ব প্রদর্শন সন্তানদের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। হ্যাঁ।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha